টুর্নামেন্ট থেকে বাদ পড়ায় নিষিদ্ধ পুরো দল, কী হচ্ছে আফকনে
আফ্রিকানদের দাবি, আফ্রিকান কাপ অব নেশনের উত্তেজনা নাকি বিশ্বকাপকেও ছাড়িয়ে যায়। আফ্রিকার প্রতিটি দেশের সঙ্গে জড়িয়ে আছে তাদের সংস্কৃতি। আর সেসব সংস্কৃতির মানুষ যখন এক হয় নিজেদের দলকে উদ্যাপন করতে, যখন আফকন হয়ে ওঠে বাহারি রঙের সমাহার। আফকন যেমন জনপ্রিয় দর্শকদের জন্য, তেমনি মাঠের ভেতরে-বাইরের কর্মকাণ্ডে হয়ে থাকে স্মরণীয়। এবারের মৌসুমেও এর ব্যতিক্রম হয়নি।
আফকনের গ্রুপ পর্ব শেষ হয়েছে, চলছে শেষ ষোলোর খেলা। সেই শেষ ষোলোতে মুখোমুখি হওয়ার আগেই মাঠের ভেতরে–বাইরে বিভিন্ন ঘটনার জন্ম দিয়েছে আফকন। এখন পর্যন্ত ঘটে যাওয়া সেসব ঘটনা নিয়েই আজকের লেখা।
বাদ পড়ে ‘নিষিদ্ধ’ পুরো দল
বড় টুর্নামেন্টে দল খারাপ খেললে কী হয়? সবার আগে খড়্গ পড়ে কোচের ওপর। চাকরি চলে যায় মুহূর্তেই। এরপর দলের বিভিন্ন জায়গায় পরিবর্তন আসে, যেন এমন ঘটনা আর না ঘটে ভবিষ্যতে। কিন্তু এবারের আফকন থেকে বাদ পড়ে গ্যাবন যেন এক রেকর্ড গড়েছে। গ্রুপ পর্বে তিন ম্যাচ খেলে হেরেছে সব কটিতেই। লজ্জাজনক এক টুর্নামেন্ট কাটিয়ে ঘরে ফিরেছে তারা। তবে দেশটির ক্রীড়ামন্ত্রী বলেছেন ‘দরকার নেই’। বরং পুরো জাতীয় দলকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ‘নিষিদ্ধ’ করেছেন তিনি। আলাদা করে দলের অধিনায়ক ও সহ-অধিনায়ক পিয়ের-এমেরিক অবামেয়াং ও ব্রুনো একুয়েলে মাঙ্গাকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে ফুটবল থেকে। পরবর্তী নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে নিজেরাই নিজেদের নিষিদ্ধ করেছে গ্যাবন।
গোল না করেই শেষ ষোলোতে
ফুটবল গোলের খেলা। এখানে গোল না দিলে যত ভালোই খেলুক না কেন, কোনো মূল্য নেই। কিন্তু সুদান যেন সেই কথাকে মিথ্যা প্রমাণ করে দিল এবারের আফকনে। সুদান পরবর্তী পর্বের টিকিট কেটেছে কোনো গোল না করেই। সুদান এবারের আফকনে ছিল ‘ই’ গ্রুপে। তাদের প্রতিপক্ষ ছিল আলজেরিয়া, বুরকিনা ফাসো ও ইকুয়েটোরিয়াল গিনি। এদের মধ্যে সুদান খেলেছে তিনটি ম্যাচ। প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়ার বিপক্ষে ৩-০ গোলে হেরেছে তারা। দ্বিতীয় ম্যাচে ইকুয়েটোরিয়াল গিনির বিপক্ষে জিতেছে ১-০ গোলে। কিন্তু সুদানের কেউ সেই গোল করেনি। বরং গিনির ডিফেন্ডার নিজেই আত্মঘাতী গোল করে সুদানকে এনে দিয়েছে জয়। তৃতীয় ম্যাচে বুরকিনা ফাসোর বিপক্ষে ২-০ গোলে হেরে গ্রুপ পর্ব শেষ করে তারা। কিন্তু ৩ ম্যাচে ৩ পয়েন্ট নিয়ে সেরা তৃতীয় দল হিসেবে দ্বিতীয় পর্বে ওঠে সুদান। যদিও শেষ ষোলোতে গিয়ে সেনেগালের বিপক্ষে গোলের দেখা পায় সুদান। কিন্তু আবদুল্লাহ ইউনুসের গোল জয়ের দেখা দিতে পারেনি তাদের।
না জিতেই কোয়ার্টারে মালি
এক দল যেমন কোনো গোল না দিয়েই পরের পর্বে জায়গা করে নিয়েছে, তেমনি আরেক দল কোনো ম্যাচ না জিতেই পাড়ি দিয়েছে কোয়ার্টার ফাইনালে। বলছি মালির কথা, বাংলাদেশের সাবেক কোচ টন সেইন্টফিটের অধীন দুর্দান্ত পারফর্ম করছে মালি। গ্রুপ পর্বে জাম্বিয়া, মরক্কো আর কোমোরোস—তিন দলের বিপক্ষেই ড্র করেছে মালি। সেরা তৃতীয় দল হিসেবে যোগ দিয়েছে শেষ ষোলোতে। সেখানেও জয়ের দেখা পায়নি তারা। বরং তিউনিসিয়ার বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করে ম্যাচ গড়িয়েছে টাইব্রেকারে। সেখানে ৩-২ ব্যবধানে জিতে কোয়ার্টারের টিকিট কেটেছে মালি।
এক ম্যাচে তিন গোলরক্ষক
ফুটবল মাঠে সবচেয়ে কম পরিবর্তন করা হয় কোন পজিশনে? যে কেউ চোখ বন্ধ করে বলে দিতে পারবে—গোলরক্ষক। কিন্তু উগান্ডা সেখানে রেকর্ড গড়েছে এক ম্যাচেই তিন গোলরক্ষক নামিয়ে। ম্যাচের ৪৬ মিনিটে চোট নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় ৪০ বছর বয়সী গোলরক্ষক ডেনিস ওনিয়াঙ্গোকে। তাঁর বদলি হিসেবে নামেন সালিম মাগুল। কিন্তু ১১ মিনিটের মাথায় বক্সের বাইরে এসে সেভ করতে যান তিনি। দেখেন সরাসরি লাল কার্ড। তাঁর জায়গায় এরপর মাঠে নামেন তৃতীয় গোলকিপার নাফিয়ান আলিওনজি। যদিও খুব একটা লাভ হয়নি, নাইজেরিয়ার বিপক্ষে ৩-১ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে উগান্ডা।
সেনেগালের দর্শকদের মাঠ পরিষ্কার
বিশ্বকাপ এলেই একটা ঘটনা দেখা যায় নিয়মিত। জাপানের খেলা শেষে দল ধরে গ্যালারি পরিষ্কার করছেন দর্শকেরা। সেই ঘটনা দেখে মুগ্ধ না হয়ে উপায় নেই। এবারের আফকনে সেই দৃষ্টান্ত দেখালেন সেনেগালের সমর্থকেরা। ম্যাচ শেষে নিজেদের গ্যালারি পুরোটা পরিষ্কার করে এরপর হোটেলে ফিরেছেন তাঁরা।