শীতকালীন দলবদলের সর্বোচ্চ ১০
অনেকটা চুপিসারেই শেষ হয়ে গেল ২০২৬ সালের শীতকালীন দলবদল। খুব একটা গুঞ্জন না থাকলেও বড় দলগুলো ঠিকই নিজেদের আখের গুছিয়ে নিয়েছে। ম্যানচেস্টার সিটি, টটেনহামের মতো দল যেমন খরচ করেছে, তেমনই সবাইকে চমকে দিয়ে দাপট দেখিয়েছে ব্রাজিলের ক্লাবগুলোও। দলবদলে শীর্ষ দশে থাকা খেলোয়াড়দের নিয়েই আজকের লেখা।
অ্যান্টনি সেমেনিয়ো
বোর্নমাউথ থেকে ম্যানচেস্টার সিটি
৭২ মিলিয়ন ইউরো
এ মৌসুমে সবচেয়ে সুন্দর দলবদল বোধ হয় এটি। সাধারণত ছোট দল থেকে খেলোয়াড়েরা বড় দলে আসতে চাইলে রীতিমতো দা-কুমড়া সম্পর্ক তৈরি হয় দল আর খেলোয়াড়দের মধ্যে। সেখানে অ্যান্টনি সেমেনিয়ো বিদায় নিয়েছেন সম্মানের সঙ্গে। পুরোনো দলকে বিদায় বলে যোগ দিয়েছেন ম্যানচেস্টার সিটিতে। বোর্নমাউথ থেকে ঘানাইয়ান উইঙ্গার অ্যান্টনি সেমেনিয়োকে তারা দলে ভিড়িয়েছে রেকর্ড ৭২ মিলিয়ন ইউরো বা প্রায় ৬২ দশমিক ৫ মিলিয়ন পাউন্ডের বিনিময়ে। বোর্নমাউথের হয়ে মৌসুমের প্রথমার্ধে ২১ ম্যাচে ১০ গোল করা উইঙ্গার ইতিমধ্যে সিটির হয়ে ২ গোল পেয়েছেন। অর্থাৎ তাঁকে কিনে যে সিটির লাভ হয়েছে, তা বোঝা যাচ্ছে প্রথম দিন থেকেই।
স্ট্যান্ড লারসেন
উলভস থেকে ক্রিস্টাল প্যালেস
৫০ মিলিয়ন ইউরো
দলবদলের মৌসুমে শেষ হওয়ার ঠিক আগে মুহূর্তে এসে একটা দলবদল যেন নাড়িয়ে দিয়ে গেল পুরো প্রিমিয়ার লিগকে। ২৫ বছর বয়সী ফ্রেঞ্চ স্ট্রাইকার জর্গেন স্ট্র্যান্ড লারসেনকে শেষ মুহূর্তে দলে ভিড়িয়েছে ক্রিস্টাল প্যালেস। সেটাও আবার নিজেদের রেকর্ড ভেঙে। তাঁকে কেনার পেছনে মূল কলকাঠি নেড়েছে এসি মিলান। ক্রিস্টাল প্যালেসের ফ্রেঞ্চ স্ট্রাইকার ফিলিপ মাতেতাকে কেনার জন্য রাজি ছিল ইতালিয়ান দলটি। কিন্তু শেষ মুহূর্তে সেই দলবদল ভেঙে যায় মেডিক্যাল টেস্টে ব্যর্থ হওয়ায়। অন্যদিকে ক্রিস্টাল প্যালেসের সঙ্গে সব কথাবার্তা শেষ লারসেনের। অগত্যা মাতেতাকে বিক্রি করতে না পারলেও লারসেনকে ঠিকই দলে ভেড়াতে হয়েছে তাদের।
লুকাস পাকেতা
ওয়েস্ট হ্যাম থেকে ফ্লামেঙ্গো
৪২ মিলিয়ন ইউরো
ইউরোপিয়ান ফুটবল ছেড়ে ঘরের ছেলে ফিরলেন ঘরে। ওয়েস্ট হ্যামের ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার লুকাস পাকেতা ৪২ মিলিয়ন ইউরোর বিনিময়ে যোগ দিয়েছেন শৈশবের ক্লাব ফ্লামেঙ্গোয়। শুধু ফ্লামেঙ্গো বা ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের নয়, বরং পুরো লাতিন আমেরিকার ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল দলবদল এটি। বিশ্বকাপের ঠিক আগে এমন দলবদল অবাক করেছে অনেককে। এ মৌসুমে ১৯ ম্যাচ খেলে ৫ গোল করেছিলেন পাকেতা। কয়েক মৌসুম ধরেই লুকাস পাকেতার বিপক্ষে স্পট ফিক্সিংয়ের অভিযোগ আসছিল। যা মিথ্যা প্রমাণিত হলেও মানসিক চাপ তৈরি করছিল তাঁর খেলায়। তাই ইংলিশ ফুটবল ছেড়ে একেবারে ঘরের মাটিতেই ফিরলেন তিনি।
কনর গ্যালাগার
আতলেতিকো মাদ্রিদ থেকে টটেনহাম
৪০ মিলিয়ন ইউরো
বড় আশা নিয়ে ইংল্যান্ড ছেড়ে স্পেনে এসেছিলেন কনর গ্যালাগার। কিন্তু সেই আশা হতাশায় পরিণত হয়েছে দ্রুতই। নিয়মিত গেমটাইম না পাওয়ায় হতাশা চেপে ধরেছিল তাঁকে। যে কারণে দেড় বছরের মাথায় আবারও প্রিমিয়ার লিগে ফিরলেন ইংলিশ মিডফিল্ডার কনর গ্যালাগার। তাঁকে কেনার ব্যাপারে সবচেয়ে বেশি আগ্রহী ছিল অ্যাস্টন ভিলা ও টটেনহাম। অবশেষে দর–কষাকষির পর ৪০ মিলিয়ন ইউরোর বিনিময়ে আতলেতিকো মাদ্রিদ থেকে গ্যালাগারকে নিজেদের ডেরায় টেনেছে টটেনহাম হটস্পার।
ব্রেনান জনসন
টটেনহ্যাম থেকে ক্রিস্টাল প্যালেস
৪০ মিলিয়ন ইউরো
১৭ বছরের ট্রফি–খরা শেষে গত বছর শিরোপার দেখা পেয়েছিল টটেনহাম হটস্পার্স। সেই শিরোপা নিশ্চিত হয়েছিল যাঁর পা থেকে, সেই ব্রেনান জনসনকে ছেড়ে দিয়েছে টটেনহাম। ব্রেনান জনসনকে নিজেদের দলে ভিড়িয়েছে ৪০ মিলিয়ন ইউরোর বিনিময়ে। যখন ভিড়িয়েছিল, তখন ব্রেনান ছিলেন ক্লাবটির ইতিহাসের সবচেয়ে দামি খেলোয়াড়। কিন্তু দলবদলের শেষ মুহূর্তে লারসেনকে কিনে নিজেদের রেকর্ড নিজেরাই ভেঙে ফেলেছে তারা।
আদেমোলা লুকম্যান
আতালান্তা থেকে আতলেতিকো মাদ্রিদ
৩৫ মিলিয়ন ইউরো
শেষ মুহূর্তের দলবদলে ছিল আরেকটি চমক। আতালান্তা থেকে ৩৫ মিলিয়ন ইউরোর বিনিময়ে আদেমোলা লুকম্যানকে দলে ভিড়িয়েছে আতলেতিকো মাদ্রিদ। কনর গ্যালাগারকে চড়া মূল্যে বিক্রি করে দলে একটা শূন্যতা তৈরি হয়েছিল বটে। কিন্তু সেটাকে যে একজন স্ট্রাইকার কিনে পূরণ করবেন, সেটা ভাবতে পারেনি কেউই। লুকম্যানের দলবদলটা তাই অনেকেই কাছেই খটকার মতো লেগেছে। ২০২৪ সালের আফ্রিকান ব্যালন ডি’অরজয়ী তারকাকে ৩৫ মিলিয়নে দলে পাওয়া বেশ বড় ব্যাপারই বটে।
অস্কার বব
ম্যানচেস্টার সিটি থেকে ফুলহাম
৩২ মিলিয়ন ইউরো
অস্কার ববকে নিয়ে বেশ স্বপ্ন দেখেছিল ম্যানচেস্টার সিটির সমর্থকেরা। কিন্তু বিশাল স্কোয়াডে এখনো নিজের জায়গা তৈরি করতে পারেননি তিনি। ২২ বছর বয়সী এই নরওয়েজিয়ান উইঙ্গারকে দলে পেতে বেশ কয়েকটি বড় ক্লাব আগ্রহী ছিল, তবে শেষ পর্যন্ত ফুলহামে যোগ দিয়েছেন তিনি। দেখা যাক সিটিতে যে স্বপ্ন দেখেছিলেন, তা ফুলহামে পূরণ করতে পারেন কি না।
ভ্যালেন্টিন কাস্তেলানোস
লাৎসিও থেকে ওয়েস্টহাম
২৯ মিলিয়ন ইউরো
পাকেতাকে হারানোর পর আক্রমণভাগ পুনর্গঠনে মনোযোগ দেয় ওয়েস্টহাম ইউনাইটেড। সে কারণে লাৎসিও থেকে ২৯ মিলিয়ন ইউরোর উড়িয়ে এনেছে আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকার তাতি কাস্তেলানোসকে। যদিও অ্যাটাকিং মিডফিল্ডারের বদলে স্ট্রাইকার কিনে আনার কারণটা বেশ সাধারণ। অবনমন থেকে বাঁচতে চাইলে এখন গোল সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন তাদের।
মাতেও গুয়েন্দোজি
লাৎসিও থেকে ফেনারবাখ
২৮ মিলিয়ন ইউরো
এবারের দলবদলের মৌসুম থেকে লাৎসিও পুরো লাভের গুড় তুলেছে। কাস্তেলানোসের পর ২৬ বছর বয়সী গুয়েন্দোজিকেও বিক্রি করে দিয়েছে তারা। ২৮ মিলিয়ন ইউরোর বিনিময়ে লাৎসিও থেকে তিনি যোগ দিয়েছেন ফেনারবাখে। অভিষেক ম্যাচেই গালাতাসারাইয়ের বিপক্ষে গোল করে তিনি ইতিমধ্যে ফেনারবাখ সমর্থকদের মন জয় করে নিয়েছেন।
রায়ান
ভাস্কো দা গামা থেকে বোর্নমাউথ
২৮ মিলিয়ন ইউরো
সেমেনিয়োকে সিটির কাছে চড়া মূল্যে বিক্রি করে বসে থাকেনি। সেই অর্থ কাজে লাগিয়েছে সঙ্গে সঙ্গেই। ব্রাজিলের তরুণ প্রতিভা রায়ানকে দলে নিয়েছে বোর্নমাউথ। ১৯ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ডকে পেতে তারা খরচ করেছে ২৮ মিলিয়ন ইউরো। ব্রাজিলের আগামী দিনের সুপারস্টার হিসেবে পরিচিত রায়ানকে ইউরোপের অনেক ক্লাবই নজরে রেখেছিল। শেষ পর্যন্ত সবার আগে সুযোগটা কাজে লাগাল বোর্নমাউথই।