উচ্চারণ নিয়ে সমস্যা? তবে এই লেখাটি পড়ো
উচ্চারণ নিয়ে সমস্যা কম-বেশি সবারই আছে। যাঁরা ভালো আবৃত্তি করেন, তাঁদেরও কোনো না কোনো জায়গায় সমস্যা থাকে। সমস্যার জায়গায় তাঁরা একটু সাবধান থাকেন। অনুশীলন করে সুন্দর উচ্চারণের অভ্যাস করেন। ভালো উচ্চারণ রপ্ত করতে হলে তোমাকেও অনুশীলন করতে হবে। আর ভালো আবৃত্তি শুনতে হবে।
তুমি কি জানো তোমার সমস্যা কোথায়? সবার কিন্তু সব ধ্বনির উচ্চারণে সমস্যা থাকে না। আবার আমি এমন অনেক মানুষ দেখেছি, যিনি বলেন, তাঁর উচ্চারণে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু তাঁর মুখের উচ্চারণেই অনেক ত্রুটি পেয়েছি! আসলে বেশির ভাগ মানুষই তাঁর নিজের উচ্চারণের ত্রুটি ধরতে পারেন না। তুমিও হয়তো পারবে না। তাই আগে এই লেখাটি পড়ো। তারপর অন্য মানুষের কথা খেয়াল করো। নিচের তালিকা অনুযায়ী কার উচ্চারণে কোথায় ভুল হচ্ছে, ধরার চেষ্টা করো। তারপর দেখো, তোমার নিজের মধ্যেও এসব সমস্যা আছে কি না।
১. চন্দ্রবিন্দুর উচ্চারণ না করা
কিছু শব্দের বানানে চন্দ্রবিন্দু আছে। উচ্চারণের সময়ে চন্দ্রবিন্দুযুক্ত শব্দে নাসিক্য উচ্চারণ করতে হয়।
২. র-ফলার উচ্চারণ আলাদা করা
র-ফলা ব্যঞ্জনের সঙ্গে যুক্ত অবস্থায় থাকে। উচ্চারণের সময়ে এই র-ফলাকে আলাদা করা যাবে না।
৩. শব্দের ভেতরে বাড়তি ই যোগ করা
সাবধান! শব্দের ভেতরে ই ধ্বনি না থাকলেও অনেকে বাড়তি ই উচ্চারণ করে। এটা করা যাবে না।
৪. ড়-এর উচ্চারণ র-এর মতো করা
ড় ধ্বনির উচ্চারণ ড়-এর মতোই হবে। ড়-এর উচ্চারণ র-এর মতো হবে না।
৫. র-এর উচ্চারণ ড়-এর মতো করা
যেসব ছেলেমেয়ে ইংরেজিতে ভালো, তাদের কারও কারও উচ্চারণে র-এর উচ্চারণ ড়-এর মতো করতে শুনেছি। র-এর উচ্চারণ র-এর মতোই হবে।
৬. অ ধ্বনিকে ও উচ্চারণ করা
অ+চেনা = অচেনা। এ রকম অনেক শব্দের আগে ‘অ’ বা ‘অনা’ যুক্ত হয়ে বিপরীত অর্থ প্রকাশ করে। এসব শব্দের শুরুর অ ধ্বনি ও-এর মতো উচ্চারণ করা যাবে না।
৭. ও ধ্বনিকে অ উচ্চারণ করা
পরে ই বা উ থাকলে অ ধ্বনির উচ্চারণ ও-এর মতো হয়। পরে য-ফলা, ক্ষ, ঋ-কার থাকলেও অ ধ্বনির উচ্চারণ ও-এর মতো হয়ে যায়।
৮. ও ধ্বনিকে উ উচ্চারণ করা
ও ধ্বনির উচ্চারণ উ-এর মতো করা যাবে না। ও ধ্বনি উ-এর মতো হলে উচ্চারণ অপ্রমিত হয়ে যায়।
৯. এ ধ্বনিকে অ্যা উচ্চারণ করা
প্রায় ক্ষেত্রেই এ বর্ণ এ-এর মতো উচ্চারিত হয়। এসব এ ধ্বনিকে অ্যা-এর মতো উচ্চারণ করলে ভুল হবে।
১০. অ্যা ধ্বনিকে এ উচ্চারণ করা
কোনো কোনো শব্দে এ বর্ণ অ্যা-এর মতো উচ্চারিত হয়। এসব শব্দের উচ্চারণে সতর্ক থাকতে হবে।
১১. ম-ফলার উচ্চারণ করা
ম-ফলা শব্দের শুরুতে বা শেষে থাকলে তার উচ্চারণ হয় না। কেবল চন্দ্রবিন্দুর মতো নাসিক্য উচ্চারণ করতে হয়।
১২. অল্পপ্রাণ ধ্বনিকে মহাপ্রাণ করা
ক, গ, চ, জ, ট, ড, ত, দ, প, ব এগুলো অল্পপ্রাণ ধ্বনি। অল্পপ্রাণ ধ্বনিতে বাতাসের চাপ কম থাকে। এসব ধ্বনিতে বাতাসের চাপ বেশি দিয়ে মহাপ্রাণ করলে ভুল হবে।
১৩. মহাপ্রাণ ধ্বনিকে অল্পপ্রাণ করা
খ, ঘ, ছ, ঝ, ঠ, ঢ, থ, ধ, ফ, ভ এগুলো মহাপ্রাণ ধ্বনি। মহাপ্রাণ ধ্বনিতে বাতাসের চাপ বেশি থাকে। কারও কারও উচ্চারণে এসব মহাপ্রাণ ধ্বনি অল্পপ্রাণ হয়ে যায়।
১৪. অঘোষ ধ্বনিকে ঘোষ করা
ক, খ, চ, ছ, ট, ঠ, ত, থ, প, ফ এগুলো অঘোষ ধ্বনি। এসব ধ্বনি উচ্চারণে স্বরতন্ত্রী কম কাঁপে। এসব অঘোষ ধ্বনিকে ঘোষ ধ্বনির মতো উচ্চারণ করা যাবে না।
১৫. ঘোষ ধ্বনিকে অঘোষ করা
গ, ঘ, জ, ঝ, ড, ঢ, দ, ধ, ব, ভ এগুলো ঘোষ ধ্বনি। এসব ধ্বনি উচ্চারণে স্বরতন্ত্রী বেশি কাঁপে। এসব ঘোষ ধ্বনির উচ্চারণ অঘোষ ধ্বনির মতো হবে না।
১৬. শুরুর যুক্তবর্ণে স্বরধ্বনি যোগ করা
শব্দের শুরুতে যুক্তবর্ণ থাকলে সেসব শব্দ উচ্চারণ করতে সমস্যা হয়। অনেকেই শুরুতে একটা স্বরধ্বনি যুক্ত করে এসব শব্দ উচ্চারণ করে। তেমনটি করা যাবে না।
১৭. অ/ও-এর উচ্চারণ না করা
শব্দের ভেতরে কিংবা শেষে অ/ও-এর উচ্চারণ কখনো কখনো করতে হয়। যদিও এসব শব্দের বানানে অ/ও দেখা যায় না।
১৮. ছ/স-এর উচ্চারণ শ-এর মতো করা
আঞ্চলিক প্রভাবে ছ/স-এর উচ্চারণ কেউ কেউ শ-এর মতো করে। ছ/স-এর উচ্চারণে সতর্ক থেকো।
১৯. শ-এর উচ্চারণ ছ/স-এর মতো করা
মিষ্টি করে বলতে গিয়ে কাউকে কাউকে দেখেছি শ-এর উচ্চারণ ছ/স-এর মতো করতে। এমনটি করলে ভুল হবে।
২০. র ধ্বনির উচ্চারণ না করা
র-ধ্বনির উচ্চারণ করতে হবে। শব্দে র থাকলে সব সময়ই তার উচ্চারণ র-এর মতোই থাকে।